হাম সংক্রমণে নিভল ৪ প্রাণ, সবাই ঢাকার
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হাম ও এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। টানা ৩ দিন যাবৎ ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা শূন্যই থাকছে। গতকাল শনিবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এই রোগের উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ২ জনের আর উপসর্গ নিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ৪ জনই ঢাকা বিভাগের। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬ জন শিশু। ৯৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৬৭৭ জন। এই সময়ে ৬২২ জন শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৬৭৫ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৬৭ জন শিশু মারা গেছে। হামে ৯৮ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৬৯ জনের প্রাণ গেছে। এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪৪ জন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬৯ জন, খুলনা বিভাগে ১০৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৮ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে
গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা ৫৯। তাদের মধ্যে নারী ৩৭ জন বা ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পুরুষ ২২ জন বা ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৮, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৭ জন ও সিটি করপোরেশনের বাইরে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেইসঙ্গে খুলনায় ১০, বরিশালে ৭, ময়মনসিংহে ৬, চট্টগ্রামে ৫, রাজশাহীতে ৩ এবং রংপুর ও সিলেটে ১ জন করে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী রয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৭ হাজার ৩৩৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
