এমভি সিএনসি ইউরেনাসকে সোয়া কোটি টাকা জরিমানা
যান্ত্রিক ত্রুটি গোপন করায় ব্যবস্থা নিল চবক
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বন্দরে প্রবেশের আগে জাহাজের স্টিয়ারিং গিয়ারের ত্রæটির তথ্য গোপন করার দায়ে এমভি সিএনসি ইউরেনাস জাহাজের মাস্টার ও শিপিং এজেন্টকে ১ কোটি টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ আরো ১৫ লাখ টাকা দিতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে বন্দর তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। গত সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট এমভি সিএনসি ইউরেনাস জাহাজটি বার্থিংয়ের উদ্দেশ্যে বন্দরে প্রবেশের সময় আইএসএম কোড অনুযায়ী পাইলটদের দেয়া তথ্যপত্রে ত্রæটির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। পরে বন্দরের চ্যানেলে প্রবেশের ঠিক আগে জাহাজের মাস্টার পাইলটদের ত্রæটির বিষয়টি জানান এবং ডিএনভি ক্লাস কর্তৃক ইস্যু করা সনদ হস্তান্তর করেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের আদেশে বলা হয়েছে, জাহাজের ত্রæটি ও এ কারণে আরোপিত সীমাবদ্ধতার তথ্য গোপন রেখে জাহাজ পরিচালনা করায় বন্দর, জাহাজ, পাইলট, বন্দর স্থাপনা ও অন্যান্য নৌযানের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এ কারণে জাহাজের মাস্টার ও শিপিং এজেন্টের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। জরিমানার ১ কোটি টাকার সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে আরো ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা দ্রুত বন্দর তহবিলে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের সময় স্টিয়ারিং সিস্টেমে ত্রæটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায় এমভি সিএনসি ইউরেনাস। এ সময় জাহাজটি একটি নেভিগেশন বয়া ও রিটেইনিং ওয়ালে ধাক্কা খেয়ে আটকে যায়। পরে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জাহাজটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ও শিপিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, সেদিন যদি জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বন্দর চ্যানেলে থাকা কোনো জাহাজ বা অন্য স্থাপনার ওপর আছড়ে পড়ত, তাহলে বন্দরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেত। এমনকি জাহাজটি যদি ডুবে যেত বন্দর চ্যানেলে, তাহলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচলই বন্ধ হয়ে যেত। সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতির বড় ধরনের ক্ষতিকর প্রভাবে পড়ত। ভাগ্যিস জাহাজটি নেভাল একাডেমি-সংলগ্ন প্রতিরক্ষা বাঁধে আটকে পড়েছিল।
