মেঘলা দিনে ঢাকার বাতাস ছিল অনেকটাই সহনীয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মতো মেগাসিটি ঢাকাও বায়ুদূষণের কবলে। তবে মাঝে মাঝে বাতাসের মান অনেকটাই ভালো হতে দেখা যায়। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল মেঘলা। মাঝেমধ্যেই বৃষ্টির দেখা পাওয়া যাচ্ছে। আর এই বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন ধরেই শহরটির বাতাসে দূষণের মাত্রা কম রয়েছে। গতকাল সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় বাংলাদেশের ঢাকার অবস্থান ছিল ৪১তম। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ৬৬, যা ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য সহনীয় বা মোটামুটি ভালো বলা যায়।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউ এয়ারে এমনটাই জানানো হয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে ছিল কঙ্গোর কিনশাসার স্কোর ১৬৬। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা উগান্ডার কামপালা শহরটির বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৬৪।
একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো একটি এলাকা বা শহরের স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান অনেক ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন। তাদের মতে, এসব উৎস থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে বায়ুর মানে স্থায়ী উন্নতি আনা সম্ভব নয়।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি।
ঢাকার বাতাসে এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি। ডব্লিউএইচও’র মতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণে কারণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।
