প্রস্তুতি ম্যাচের অভাবে বাউন্সে ভুগেছে বাংলাদেশ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
দেশের মাটিতে টানা সাফল্যের পর জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে ব্যাটিংয়ের দুর্বল চেহারা দেখা গেছে বাংলাদেশের। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর ওয়ানডে সিরিজও হেরেছে তারা। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও হারতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়ে সফর শেষ করলেও ব্যর্থতার ক্ষত মুছে যায়নি। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের বাড়তি বাউন্স সামলাতে না পারাই বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের মতে, নতুন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে ব্যাটারদের। আর আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ না থাকায় সেই প্রক্রিয়া আরো কঠিন হয়েছে। তার বিশ্বাস, জিম্বাবুয়ের এই অভিজ্ঞতা আগামী মাসের অস্ট্রেলিয়া সফর এবং ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কাজে দেবে।
জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফিরে আশরাফুল বলেন, বাড়তি বাউন্স ছিল, ওই বাউন্সে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগেছে। টেস্ট ম্যাচটা আমরা ভালো করতে পারিনি। পরে তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে আমরা মানিয়ে নিতে পেরেছি। আমি মনে করি, সামনে ২০২৭ বিশ্বকাপে ওভাবে আমরা হয়তো প্রস্তুতি নিতে পারব। জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে- দুই সংস্করণেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের শর্ট বলের বিপক্ষে ভুগতে দেখা গেছে। জিম্বাবুয়ের পেসাররা বাড়তি বাউন্স কাজে লাগিয়ে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়েছেন। পুরো সফরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার সেঞ্চুরিও পাননি। ফলে ব্যাটিং ব্যর্থতাই টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে দলের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আশরাফুল মনে করেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে এখন আর আগের মতো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই। অথচ নতুন কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নিতে এমন ম্যাচের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, আগে একটা তিন দিনের ম্যাচ বা একটা ওয়ানডে ম্যাচ হলে মানিয়ে নেয়া সহজ হতো। ওই অপশনটা এখন নেই, এখন গিয়েই খেলতে হয়।
চোটের কারণেও বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে ছিল। ওয়ানডে সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ক্রিকেটারকে পাওয়া যায়নি। মুস্তাফিজুর রহমানও চোটের কারণে দ্বিতীয় ম্যাচের পর আর খেলতে পারেননি। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগাকেই দেখছেন আশরাফুল।
সামনে বাংলাদেশের জন্য আরো কঠিন পরীক্ষা। আগামী মাসে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেখানেও গতি ও বাড়তি বাউন্সের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে এবার প্রস্তুতির জন্য তুলনামূলক বেশি সময় পাওয়ার আশাবাদী আশরাফুল। তিনি বলেন, এই সফরটা আমাদের অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও কাজে দেবে। গত সাত মাস ধরে আমরা আমাদের ঘরের কন্ডিশনে ভালো করছিলাম, কিন্তু ভিন্ন একটা কন্ডিশনে আমাদের একটু সময় লেগে গেছে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আশরাফুল বলেন, এতে ব্যাটারদের কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেয়া সহজ হবে। তার আশা, জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো করবে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন আশরাফুলও। তবে এসব সমালোচনায় বিচলিত নন তিনি। তার মতে, একটি সিরিজের ব্যর্থতা দিয়ে গত কয়েক মাসের পারফরম্যান্স বিচার করা উচিত নয়। সাত মাস ধরে আমাদের ব্যাটাররা খুবই ভালো করছেন। একটা সিরিজ খারাপ হতেই পারে। একটা টেস্ট ম্যাচ খারাপ হয়েছে, এর আগের চারটি টেস্ট ম্যাচেই অসাধারণ খেলেছেন আমাদের ব্যাটাররা। আমি চেষ্টা করছি আমার জায়গা থেকে সেরাটা দেয়ার।
