১৮ তলা থেকে লাফ দিয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন তরুণী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রেমিকের সঙ্গে বিরোধের এক পর্যায়ে ১৮ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বেঁচে গেছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। নিচে থাকা একটি গাছ তার পতনের গতি কমিয়ে দেওয়ায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান তিনি। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত ১২ জুলাই ভোরে জিয়াশিং শহরে এ ঘটনা ঘটে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তরুণীর প্রকৃত নাম প্রকাশ না করে তাকে ‘শিয়াওই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার আগে ভাড়া বাসায় প্রেমিকের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে তীব্র বাক্বিতণ্ডা হয়। এর আগেই সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ শহর ইউনানে ফিরে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিটও কেটেছিলেন তিনি। তবে প্রেমিক তাকে যেতে বাধা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তরুণীর মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে বের হওয়ার অন্য কোনো উপায় না পেয়ে তিনি ভবনের ১৮ তলার বারান্দা থেকে লাফ দেন।
অলৌকিকভাবে নিচে থাকা একটি গাছ তার পতনের ধাক্কা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। পরে ঝোপের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনার পর প্রেমিকই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যয় বহন করেন।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, শিয়াওইয়ের মাথা, ফুসফুস, যকৃত ও প্লীহায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়া তার শ্রোণি, পিউবিক হাড় এবং দুই পা ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও অর্থসংকটের কারণে পরবর্তী অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হয়েছে।
চেতনা ফিরে পাওয়ার পর শিয়াওই পুরো ঘটনার বর্ণনা পরিবারের সদস্যদের জানান। তার চাচা বলেন, তরুণী এখন নিজের সেই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। পরিবারের ভাষ্য, তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সেখান থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়া।
বর্তমানে চিকিৎসার ব্যয় এক লাখ ইউয়ানের বেশি ছাড়িয়েছে। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান এলেও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
এদিকে পরিবারের আপত্তির কারণে তরুণীর প্রেমিককে হাসপাতালে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি কয়েকবার হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।
