বিয়েতে মাকে আমন্ত্রণ না করায় কর্মীকে বরখাস্ত করলেন সিইও
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিধবা মায়ের সাধারণ চলাচল ও চেহারা পছন্দ নয় বলে নিজের বিয়েতে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে এক কর্মীকে বরখাস্ত করেছেন চীনের এক প্রতিষ্ঠানের প্রধান (সিইও)।
বুধবার (৫ আগস্ট) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
চীনের মধ্যাঞ্চলের হেনান কুয়াংশান ক্রেন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চুই পেইজুন সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠানের ইন্টার্নশিপ অনুষ্ঠানে ঘটনাটি তুলে ধরেন। কর্মীদের বিপুল বোনাস দেওয়ার কারণে তিনি ‘চীনের সবচেয়ে উদার বস’ হিসেবেও পরিচিত। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বোনাস হিসেবে ১৮ কোটি ইউয়ানের বেশি, যা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, বিতরণ করা হয়েছে।
চুই জানান, এক কর্মীর বিয়েতে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি দেখতে পান, ওই কর্মীর বিধবা মা বিয়ের অনুষ্ঠানে না থেকে কারখানার কাছে একা বসে আছেন। পরে বিষয়টি জানতে চাইলে ওই কর্মী স্বীকার করেন, মায়ের সাধারণ বেশভূষা নিয়ে তিনি বিব্রত ছিলেন। তাই বিয়ের অতিথির তালিকায় ইচ্ছাকৃতভাবে মায়ের নাম রাখেননি।
নিজের মায়ের প্রতি এমন আচরণের জন্য চুই তার ওই কর্মীর প্রতি ক্ষুব্ধ হন। তিনি মনে করিয়ে দেন, কর্মীটির বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তার বাবা মারা যান। এরপর তার মা একাই তাকে বড় করেছেন। চুই বলেন, ‘তোমার বাবা যখন তুমি দুই বছরের, তখন মারা গিয়েছিলেন। আর তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে এভাবে আচরণ করছ?’
এরপরই কর্মীটিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন তিনি। পরে ওই কর্মী ফিরে এসে চাকরি ফিরে পাওয়ার অনুরোধ করলেও চুই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি। তিনি বলেন, ‘তোমার প্রতি আমার কোনো সম্মান নেই। আমি দুঃখিত, তোমাকে চলে যেতেই হবে।’
তবে এখানেই ঘটনা শেষ হয়নি। ওই নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুই তাকে প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন। তাকে কোম্পানির লজিস্টিকস বিভাগে তার আগের বেতনের সমপরিমাণ বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং কোটি কোটি মানুষ এটি দেখেছেন। তবে এ নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। অনেকে চুইয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, কর্মীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, যে ব্যক্তি নিজের মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারেন না, তার কাছ থেকে অন্যদের প্রতি ভালো আচরণ আশা করা কঠিন।
অন্যদিকে নিয়োগকর্তার কী একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত নৈতিকতা বা পারিবারিক আচরণের ভিত্তিতে প্রশ্ন তোলা উচিত কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। একজন নেটিজেন বলেছেন, ‘একটি কোম্পানি নির্দিষ্ট কিছু মূল্যবোধকে উৎসাহিত করতে পারে, কিন্তু পিতৃমাতৃভক্তি একটি ব্যক্তিগত বিষয়। যদি কর্মচারী তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে থাকেন, তবে তাকে বরখাস্ত করা তার শ্রম অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে।’
এছাড়া আরেকজন বলেছেন, ‘একটি সত্যিকারের সভ্য সমাজে, মালিকদের নৈতিক বিচারকের ভূমিকা পালন করা উচিত নয়। আইনেরই উচিত ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।’
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
