মেহেন্দিগঞ্জে লোডশেডিং চরমে, জনজীবনে প্রভাব
আসাদুল ইসলাম আসাদ, মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল)
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
সারাদেশে চলমান লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জনজীবনে। উপজেলার পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে লোডশেডিং কিছুটা বেশি। কোন কোন এলাকায় দিনে-রাতে ৭ থেকে ৮ বার লোডশেডিং চলছে।
লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ব্যহত হচ্ছে গৃহস্থালি কাজ,ব্যবসা-বানিজ্য ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। এ ছাড়াও মধ্য রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে বাড়ছে চুরি সহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ। এমনকি খোদ পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এসব নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য,‘শীত মৌসুম ব্যতীত কখনোই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা চোখে দেখেনি এ অঞ্চলের মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলে থাকেনা বিদ্যুৎ। আর ঝড়-বন্যা হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ দিন বা তারও বেশি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান হাইকমিশনে বুলডোজার চালাল ভারত
উপজেলার যাতায়াতের প্রধান বাহন অটোরিকশা যা পুরোপুরি বিদ্যুৎ এর উপর নির্ভশীল। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সড়কে কমেছে এ বাহনের উপস্থিতি। ধাপে ধাপে চার্জ করে সড়কে নামতে হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন চালকরা।
কালিকাপুর গ্রামের দুলাল আকন বলেন, অনেক সময় দুপুরে বিদ্যুৎ গেলে আসরের পর আসে। আবার কখনো সন্ধ্যা রাতে গেলে মধ্য রাতে আসে। মধ্যরাতে গেলে সকাল ছাড়া বিদ্যুৎ আসে। এমন পরিস্থিতি গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জীবনযাপন। ফ্রীজের মাছ মাংস নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
চরএককরিয়া ইউনিয়নের ৩ নং চর লতা গ্রামের জাহিদ হাসান সানির ভাষ্য, দিনে রাতে একাধিকবার লোডশেডিং হয়। দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় মোটর দিতে পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় গোসল ও গৃহস্থালির কাজকর্ম ব্যহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অটো চালক মোহাম্মদ শুভ'র ভাষ্য,‘ আমাদের অটো পুরোপুরি বিদ্যুৎ নির্ভর। একটানা ৪ থেকে ৬ ঘন্টা চার্জ করতে পারলে পরের দিন রাস্তায় নামতে পারি। কিন্তু রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে চার্জ পূর্ণ না হওয়ায় দিনের পুরোটা সময় গাড়ি চালাতে পারিনা।
শিক্ষার্থী আলভী জানান,‘ আমাদের অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ও এইচএসি পরীক্ষা চলমান। এমন সময়ে ধারাবাহিক লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
ফার্মেসী মালিক শরীফ বলেছেন,অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেনা। সবমিলিয়ে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
এসব বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান জানান,‘ ৫৫ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ১১ মেগাওয়াট কিন্তু আমাদের সরবরাহ মাত্র ৫ মেগাওয়াট। এটাই লোডশেডিংয়ের মুল কারণ।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা সম্পর্কে মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন,‘ প্রায় ৫৭ কিলোমিটার দূর হতে ৩ টি নদীর তলদেশ হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ হয়েছে। এতে কোন একটি স্থানে বিচ্যুতি ঘটলে পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। তার দাবি,কাজিরহাট থানায় একটি পাওয়ার গ্রীড নির্মাণ করলে স্থায়ী সমাধান হবে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুৎ সমস্যার।
