রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির-ছাত্রলীগ পাল্টাপাল্টি হামলা, আহত ৩
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের কয়েকজনের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে ‘অস্ত্রের মুখে প্রেমে রাজি করানোর চেষ্টা’ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জানাতে এক শিক্ষার্থী প্রক্টর দপ্তরে যান। সেখানে অভিযুক্ত মহসিন আলমের অভিভাবক পরিচয়ে ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস উপস্থিত হন। এ সময় প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে তার অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও অভিযুক্তদের নিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালে আনাস প্রক্টর দপ্তরে গেলে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির এবং উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও প্রক্টর তাকে ছেড়ে দেন।
এরপর আনাস ও তার সহযোগীরা রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে রাকসুর মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজমুস শাকিব আহত হন।
আরও পড়ুন: এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট
অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর আনাস ও তার সঙ্গীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নেন। পরে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসানসহ রাকসু, হল সংসদ ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আরও অভিযোগ করা হয়, আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ও তাদের মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। একই সঙ্গে রাকসু ও শিবিরের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, তারা রাকসু কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন। এ সময় আনাস ও তার সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে রাকসুর মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদককে আহত করে পালিয়ে যান।
আরও পড়ুন: ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি
তিনি আরও বলেন, আগের দিনের ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর পরই তিনি ফিরে এসে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন।
লাইব্রেরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালাউদ্দিন আম্মারের দাবি, হামলার পর আনাস ও তার সহযোগীদের রিডিং রুমে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের বের করে আনতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় রাকসুর সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনাস বা তার সহযোগীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সভায় থাকার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
