চুয়েট
ভিসি কার্যালয়ে ফের তালা দিল শিক্ষার্থীরা, নতুন উপাচার্য অবরুদ্ধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নিয়োগের ২১ দিন পর নিজ কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রবেশ করেও স্বস্তিতে থাকতে পারলেন না চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম। কার্যালয়ে প্রবেশের পরই তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। নতুন উপাচার্যের নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন আরও জোরালো হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপাচার্য তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তার প্রবেশের খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘তালা তালা হবে, ভিসি ভবন তাল হবে’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচির কারণে প্রশাসনিক ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ভবনে তালা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটেনি; বরং আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে বিরোধ
চুয়েটে বর্তমান অচলাবস্থার সূত্রপাত উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।
মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। তাদের প্রধান দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবিতে তারা টানা ২১ দিন ধরে আন্দোলন ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। ফলে নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ ও কার্যালয়ে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। নিয়োগের ২১ দিন পর তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশের ঘটনা সেই উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরুর পর পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলনে যুক্ত হন। তারা পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি যুক্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে সেমিস্টার শেষ করা, পরীক্ষা নেওয়া এবং ফল প্রকাশে বিলম্ব হলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রমও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সেশনজটের আশঙ্কা
চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে কোর্স সম্পন্ন করা ও পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্নাতক সম্পন্ন করার সময় এবং পরবর্তী উচ্চশিক্ষা বা চাকরিতে প্রবেশের প্রস্তুতির ওপরও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দাপ্তরিক কাজেও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধের সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের দাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অচলাবস্থা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে শিক্ষা কার্যক্রমের অনিশ্চয়তা। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনেও পড়তে পারে।
