বুকভাঙা কষ্ট নিয়েই আজ মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আজ রাত ৩টায় মাঠে নামছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। কিন্তু এই ম্যাচে নেই ফাইনালে ওঠার আনন্দ, নেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। কারণ মাত্র কয়েক দিন আগেই দুই দলই সেমিফাইনালে ভেঙে পড়েছে। একদল হেরেছে আর্জেন্টিনার কাছে, আরেক দল স্পেনের কাছে। তাই আজকের ম্যাচটা আসলে দুই ভাঙা হৃদয়ের লড়াই। ব্রোঞ্জ পদক হয়তো মিলবে, কিন্তু যে স্বপ্নটা ছিল স্বর্ণের ট্রফি ছোঁয়ার, সে স্বপ্ন আর এবার তাদের পূর্ণ হলো না।
ইংল্যান্ডের কষ্টটা হয়তো আরো বেশি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেও শেষ রক্ষা হয়নি। জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন, ফিল ফোডেন সবাই নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিল। কিন্তু ছোট্ট একটি ভুলই শেষ করে দেয় ফাইনালের স্বপ্ন। তাই আজ থমাস টুখেলের দল চাইবে অন্তত বিশ্বকাপটা জয় দিয়ে শেষ করতে।
আরো পড়ুন: গোল্ডেন বুট ও বল কি খাঁটি স্বর্ণের? এই অমূল্য পুরস্কারের বিশেষত্ব কী?
অন্যদিকে ফ্রান্সও কম হতাশ নয়। স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের ছন্দই খুঁজে পায়নি এমবাপ্পেরা। এবারের বিশ্বকাপে দারুণ খেলেও শেষ চারে এসে থেমে যেতে হয়েছে। তার ওপর এটি কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী ম্যাচ। তাই পুরো দলই চাইবে তাকে জয় উপহার দিতে।
মাঠের লড়াইটা কিন্তু হতে পারে দারুণ। ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে বেলিংহাম আর ডেকলান রাইস যদি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে কেইনের জন্য সুযোগ তৈরি হবে বারবার। আর ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার একটি স্প্রিন্ট, একটি ফিনিশই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে দুই দলই যেহেতু মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, তাই ম্যাচের শুরুটায় তারা কিছুটা সতর্ক থাকতে পারে। এরপরই বাড়বে আক্রমণের গতি।
আরো পড়ুন: যেভাবে স্পেনকে ফিরিয়ে আর্জেন্টিনার হয়েছিলেন মেসি
কাগজে-কলমে দুই দলই সমান শক্তিশালী। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর এমবাপ্পের ফর্ম বিবেচনায় ফ্রান্সকে সামান্য এগিয়ে রাখা যায়। প্রেডিকশন অনুযায়ী, ফ্রান্স ২-১ ইংল্যান্ড। তবে যেই জিতুক, একটা বিষয় নিশ্চিত। আজ রাতের শেষে এক দল ব্রোঞ্জ হাতে হাসবে, আর অন্য দল আরো একবার মনে করবে 'আর মাত্র একটা ম্যাচ জিতলেই তো আমরা ফাইনালে থাকতাম!' এটাই হয়তো বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেগের, সবচেয়ে নীরব ম্যাচ।
