অবশেষে অনশন ভাঙার আভাস সোনম ওয়াংচুকের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টানা ২৫ দিনের অনশনের পর অবশেষে অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের খ্যাতনামা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, লাদাখকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় অন্তর্ভুক্তিসহ কয়েকটি দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সূত্রে জানা গেছে, গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ওয়াংচুকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে দুই মন্ত্রী আইসিইউতে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট কথা বলেন। বৈঠক চলাকালে চিকিৎসক ও হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের বাইরে থাকতে বলা হয়।
আরও পড়ুন: ‘ককরোচ’ আন্দোলনের জেরে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ
যদিও বৈঠকের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকে লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনা, পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা প্রদান এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো পুনরায় তুলে ধরেন ওয়াংচুক।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবিতে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেলে অনশন প্রত্যাহারে সম্মতি জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে অনশনের ২১তম দিনে পুলিশ ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করলেও পরে দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতিতে তাকে গুরুগ্রামের বেসরকারি মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন: অমিত শাহের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ভারতের পার্লামেন্ট
দীর্ঘ ২৫ দিনের অনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, শরীরের সঞ্চিত শর্করা ও চর্বি প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন পেশির প্রোটিন ক্ষয় শুরু হয়েছে এবং দ্রুত ওজন কমছে। এ অবস্থায় হঠাৎ খাবার গ্রহণ করলে ‘রিফিডিং সিন্ড্রোম’-এর মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল সার্বক্ষণিক তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রক্ত পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে বিকেলের পর তাকে আইসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
