পোল্যান্ডে আছড়ে পড়ল রুশ ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান মোতায়েন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্রটি আছড়ে পড়ার পর অনতিবিলম্বে নিজদের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ফক্স নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার শেষ রাতে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার চালানো ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অংশ হিসেবেই পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল এই ক্ষেপণাস্ত্রটি। ইউক্রেনে চালানো সেই রাতভর হামলায় শিশুসহ অন্তত আটজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি।
আরো পড়ুন: ডিএনসিসি প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
রাশিয়ার আগ্রাসন ও ইউক্রেন সংকট এখন পার্শ্ববর্তী ন্যাটো দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রায়ই লক্ষ্যভ্রষ্ট ড্রোন ও মিসাইলের উপস্থিতি সেই শঙ্কাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলায় এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রায় সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ন্যাটোর এক মুখপাত্র বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত হওয়ার পর পোল্যান্ডসহ ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, একটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি আকাশস্থ আগাম সতর্কীকরণ বিমান মোতায়েন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘ন্যাটো তার ভূখণ্ড রক্ষায় সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।’
পোলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘বিস্ফোরণের ফলে পূর্বাঞ্চলীয় তারনাওয়া-কলোনিয়া গ্রামে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবু এটি ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধ তাদের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ‘পোল্যান্ড ও ন্যাটো তাদের আকাশ ও স্থল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাটি রাশিয়ার আরও একটি বেপরোয়া পদক্ষেপ এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের একটি বিপজ্জনক পরিণতি।’
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।’
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘একটি রুশ খ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।’
আরো পড়ুন: যেসব ভুলের কারণে মুখে বারবার ব্রন ওঠে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পথভ্রষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপীয় দেশগুলোর, বিশেষ করে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত দেশগুলোর জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
রোমানিয়া তার আকাশসীমায় বিপথগামী ড্রোনের বারবার অনুপ্রবেশের খবর দিয়েছে। সোমবার তিনটি ড্রোনের সর্বশেষ অনুপ্রবেশের পর বুখারেস্ট এ ধরনের বারবার আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
গত মে মাসে এস্তোনিয়া ও লাটভিয়া রাশিয়া থেকে তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের খবর জানায়। এরপর এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে বিতর্কের জেরে রিগার সরকার ভেঙে পড়ে।
গত বছর পোল্যান্ড এ ধরনের হুমকির জবাবে তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। দেশটি জানিয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়মিত শনাক্ত করা হচ্ছে।
