×

আন্তর্জাতিক

এলএনজি সংকট তীব্র, স্পট বাজারে দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

এলএনজি সংকট তীব্র, স্পট বাজারে দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশ

ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কার্গো সময়মতো না পাওয়ায় দেশে জ্বালানি সরবরাহের সংকট আরও গভীর হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে এলএনজির মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় গ্যাস আমদানিতে সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে।

পেট্রোবাংলার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি পাঁচ দফা দরপত্র ও পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের জন্য মাত্র দুটি স্পট এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহকারীরা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি মূল্য প্রস্তাব করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেট্রোবাংলা সর্বশেষ দুটি স্পট কার্গো কিনেছে। এর একটি ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার দরে, যা ১৫-১৬ আগস্ট সরবরাহ করা হবে। অন্যটি বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার দরে কেনা হয়েছে, যার সরবরাহ নির্ধারিত ২-৩ আগস্ট।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ভিটল এশিয়ার কার্গোর জন্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার এবং বিপি সিঙ্গাপুরের কার্গোর জন্য প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে।

এর আগে ২৬-২৭ জুলাই টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড যে স্পট কার্গো সরবরাহ করেছিল, তার মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় সর্বশেষ কেনা দুটি কার্গোর দাম প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম ঋণমান 'স্থিতিশীল' থেকে 'নেতিবাচক' পর্যায়ে নামিয়ে আনায় স্পট বাজারে মূল্য বৃদ্ধির ওপরও প্রভাব পড়েছে।

তাদের ভাষ্য, কাতারএনার্জি, ওমানের ওকিউ ট্রেডিং, এক্সিলারেট এনার্জি এবং সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিংয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক সরবরাহকারীরা স্বাভাবিকভাবে এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশ বর্তমান স্পট বাজারমূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে গ্যাস কিনতে পারত। বিদ্যমান বিক্রি ও ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুযায়ী প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য প্রায় ১১ থেকে ১২ মার্কিন ডলার হওয়ার কথা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর 'ফোর্স মেজর' ঘোষণা করে কাতারএনার্জি, ওকিউ ট্রেডিং ও এক্সিলারেট এনার্জি নির্ধারিত কার্গো সরবরাহ স্থগিত রাখে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তি বাতিল হওয়ায় সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিংয়ের সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং আগের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১১ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার দরে আবারও বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সামিটের সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি পুনরায় কার্যকর হলে দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। কারণ প্রতিষ্ঠানটি 'ফোর্স মেজর' ঘোষণা করেনি।

সরকার সম্ভাব্য গ্যাস ঘাটতি মোকাবিলায় চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্পট বাজার থেকে মোট ৩৮টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে। তুলনায় ২০২৫ সালে স্পট বাজার থেকে আমদানি করা হয়েছিল মোট ৪৯টি কার্গো।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি গত ২১ জুলাই দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটির কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ আরও কমে গেছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২ হাজার ১৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে পুনর্গ্যাসীকৃত এলএনজির পরিমাণ ছিল ৫০০ এমএমসিএফডি। অথচ দুর্ঘটনার আগে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৬৪২ এমএমসিএফডি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: মাহদী আমিন

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: মাহদী আমিন

বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই: দুদক

বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই: দুদক

ঢাকায় আসছেন মার্কিন নৌবহরের কমান্ডার

ঢাকায় আসছেন মার্কিন নৌবহরের কমান্ডার

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বেনজীরকে দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App