ইরানের হুমকিতে তুরস্কে গোপনে বিমান বদল নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
এয়ারফোর্স ওয়ানের সামনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গত মাসে ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার সময় সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় গোপনে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওহাইওতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শেই তাকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, ‘সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী আমাকে অন্য ফ্লাইট, অন্য বিমানে যেতে বলেছিল। আমাকে তাদের কথাই মানতে হয়।’ তবে কী ধরনের হুমকি শনাক্ত করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে চাননি বলেও জানান।
আরও পড়ুন: গাঁজা খেয়ে বিমান চালাচ্ছিলেন পাইলট, এরপর যা ঘটল!
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের। সেদিন টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে তাকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়। তবে পরে জানা যায়, পুরো বিষয়টিই ছিল একটি নিরাপত্তা কৌশলের অংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে গোপনে ওই বিমান থেকে বের করে একটি ছোট সামরিক বিমান সি-৩২এ-তে নেওয়া হয়। বিমানটি সাধারণত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এরপর ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানটি নিজস্ব কলসাইন ব্যবহার করে উড্ডয়ন করে।
অন্যদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ‘এএফ১’ কলসাইন ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফলে বাইরে থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল, ট্রাম্প ওই বিমানেই রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশ্বাসযোগ্য ইরানি হুমকি শনাক্ত করেছিল। সেই আশঙ্কা থেকেই প্রেসিডেন্টকে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি যে সামরিক বিমানে উঠেছিলেন, সেটিই হয়তো ‘আরও বেশি ঝুঁকির’ মধ্যে ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক হুমকি পাই, যেগুলো আপনারা জানেন না।’
ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও। কারণ, ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়ার পর যে বিমানে তারা ছিলেন, সেটিকে বিভ্রান্তিমূলক বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হলেও তাদের অনেকেই বিষয়টি জানতেন না।
বিমানটিতে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্দেশ সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে। এক পর্যায়ে একজন ফটোগ্রাফার অল্প সময়ের জন্য জানালার পর্দা তুললে তাকে দ্রুত তা নামিয়ে দিতে বলা হয়।
আরও পড়ুন: ভুয়া কনের ফাঁদে নিঃসঙ্গ পুরুষরা
এর আগে তুরস্ক ছাড়ার সময় সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখেছিলেন। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করতেই’ তিনি ওই বিমানে যাচ্ছেন। পরে জানা যায়, সেটিও ছিল তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা যখন তীব্র ছিল, তখনই এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ট্রাম্প নিজেও বলেছিলেন, ইরানের কাছে তিনি ‘এক নম্বর লক্ষ্য’। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটির মতে, কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি থাকলে সাংবাদিকদের তা জানানো উচিত, যাতে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
