মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির মহড়া, পাঠানো হচ্ছে নতুন রণতরি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে নতুন একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করে সেখানে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশিত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে গত প্রায় ২০০ দিন কোনো বন্দরে নোঙর করেনি মার্কিন এই বিমানবাহী রণতরি। দীর্ঘদিন বিরতিহীনভাবে দায়িত্ব পালন করায় জাহাজটির নাবিকদের কর্মপরিবেশ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
গত বছরের নভেম্বরে আব্রাহাম লিংকনকে সামরিক দায়িত্বে পাঠানো হয়। পরে জানুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আগে রণতরিটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মোতায়েন করা হয়। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সময় রণতরি ও এর যুদ্ধবিমানগুলো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে অংশ নেয়। পরবর্তী সময়ে ইরানের বন্দরকেন্দ্রিক মার্কিন অবরোধ কার্যকর রাখার কার্যক্রমেও রণতরিটি যুক্ত ছিল।
আরো পড়ুন: সাপ মারতে বাংলাদেশি বেজি নিয়ে বিপদে জাপান, শেষমেশ যা ঘটল
দীর্ঘ সময় ধরে একটানা সামরিক দায়িত্ব পালনের ফলে আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। নাবিকদের বর্তমান কর্মপরিবেশ ও জীবনযাত্রার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পেন্টাগনের কাছেও জবাব চাওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান হুং কাওয়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল লিখেছেন, ‘রণতরিতে মৌলিক সামগ্রীর ঘাটতি, পানিদূষণ, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ডেকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং ডাকব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার অনেক খবর পাওয়া গেছে।’
ব্লুমেন্থাল আরো বলেন, ‘জাহাজে পাঠানো অনেক পার্সেল ও পরিবারের পাঠানো প্রয়োজনীয় সামগ্রী পথেই হারিয়ে গেছে। কয়েক মাস ধরে সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।’
মার্কিন প্রতিনিধি মার্লিন স্টুটজম্যান গতকাল সিএনএনকে বলেন, ‘তিনি পেন্টাগন ও মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে এ বিষয়ে নতুন তথ্য চাইবেন।’
তিনি বলেন, ‘যারা দেশের সেবা করছেন, তারা যেন অন্তত এই আত্মবিশ্বাসটুকু পান যে তাদের সঠিক যত্ন নেওয়া হচ্ছে।’
