রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টা: আয়াসসহ ৪ জন রিমান্ডে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস ও তাঁর সহযোগী সাকিবুল হাসানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার অন্য দুই আসামি সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি জানিয়েছেন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই মো. রেজাউল।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আয়াসসহ আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন সুমন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
যেভাবে আটক হন চারজন
শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আয়াসসহ একদল তরুণ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
আরও পড়ুন: মুক্তি পেয়ে যে বার্তা দিলেন অভিজিত
ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়। এ সময় এক পুলিশ সদস্য তাঁকে বাধা দেন। ওই নারী দাবি করেন, তাঁরা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। পুলিশের বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে তাঁরা স্লোগানও দেন।
এ ঘটনায় শনিবার শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হক মামলা করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।
যেসব প্রতিকৃতি নিয়ে বিতর্ক
গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরপর ফুটপাতের পাশের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
শুক্রবার ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এসব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।
এরপর শনিবার রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক দেয়ালে আঁকা এসব প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
