×

জাতীয়

পোড়ানোর আগে আমার ছেলে জীবিত ছিল: সজলের মা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

পোড়ানোর আগে আমার ছেলে জীবিত ছিল: সজলের মা

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় সাতজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়েছেন শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহিনা বেগম। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে সজলকে জীবিত অবস্থায় আগুনে পোড়ানো হয়েছিল এবং দোষীদের দ্রুত দণ্ড কার্যকরের দাবি জানান।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পুলিশ ভ্যানে ছয়টি মরদেহের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবিত থাকা একজন আন্দোলনকারীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ওই জীবিত ব্যক্তি ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন সজল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন দেওয়ার সময়ও ওই ব্যক্তির নড়াচড়ার আলামত দেখা যায়। তাদের মতে, তখন চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও তা না দিয়ে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় নিহত সাতজন হলেন: সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস-সবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা পরে একত্র করে একটি মামলায় রূপ দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও বিশ্লেষণে ঘটনাস্থল আশুলিয়া থানার আশপাশ বলে শনাক্ত করা হয়। ভিডিওতে স্থানীয় একটি নির্বাচনী পোস্টার দৃশ্যমান থাকায় স্থানটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ ভ্যানে রাখা মরদেহগুলোতে আগুন দেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে।

এই ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মোট ১৬ আসামির বিরুদ্ধে রায় দেন। এর মধ্যে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একজনকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আটজন কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি আটজন পলাতক।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাদের সহযোগীদের গুলিতে অন্তত ৩১ জন নিহত হন। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে শাহিনা বেগম বলেন, ৫ আগস্ট তিনি একটি পুলিশ পিকআপে কয়েকটি পোড়া মরদেহ দেখতে পান। একটি মরদেহের পায়ের সঙ্গে ঝুলে থাকা পোড়া জুতা দেখে তিনি সেটিকে তার ছেলে সজলের বলে শনাক্ত করেন। পরে আংশিক পোড়া কর্মস্থলের পরিচয়পত্র এবং মানিব্যাগে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখে মরদেহটি নিশ্চিত করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “পোড়ানোর আগে আমার ছেলে জীবিত ছিল। আসামিদের দণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর হয়।”

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে অংশ নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এসআই আবদুল মালেক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। তবে এখনো সেই আপিলের শুনানি শুরু হয়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বস্তি থেকে শহরে দুই বাড়ির মালিক

বস্তি থেকে শহরে দুই বাড়ির মালিক

বিয়েতে মাকে আমন্ত্রণ না করায় কর্মীকে বরখাস্ত করলেন সিইও

বিয়েতে মাকে আমন্ত্রণ না করায় কর্মীকে বরখাস্ত করলেন সিইও

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

বিমানবন্দরে নারীর ব্যাগে মিলল মার্কিন গৃহযুদ্ধের কামানের গোলা

বিমানবন্দরে নারীর ব্যাগে মিলল মার্কিন গৃহযুদ্ধের কামানের গোলা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App