×

জাতীয়

শেখ হাসিনার ইস্যুতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর

Icon

নাজমুল হাসান, ভোরের কাগজ

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২১ এএম

শেখ হাসিনার ইস্যুতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর নিয়ে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ, আলোচ্যসূচি ও সফরের প্রস্তুতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফায় যোগাযোগও হয়েছে। এমনকি সম্ভাব্য সময়ও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনের পর সেই প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখনো কাটেনি সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা।

কূটনৈতিক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, আগস্টের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহে সফর নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করছে ঢাকা ও দিল্লির চলমান যোগাযোগ এবং সফরের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর।

আরও পড়ুন: ফখরুল-অলি মুখোমুখি, সংসদে সংখ্যার লড়াইয়ে এগিয়ে কে

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হতে পারে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। এই সফরকে ঘিরে ভারতের পক্ষ থেকে দুটি আমন্ত্রণ রয়েছে। একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ, অন্যটি সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। গত ১৪ জুলাই ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে আমন্ত্রণপত্র ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। পরে ২৩ জুলাই তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়।

তবে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল যাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হলেও দ্বিপক্ষীয় সফরে তারেক রহমানের দিল্লি যাওয়া এখনো অনিশ্চিত।

শেখ হাসিনাকে ঘিরেই জটিলতা

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের মতে, তারেক রহমানের সফরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। ভারত জানিয়েছে, তারা বিষয়টি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করছে।

এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে ভালোভাবে নেয়নি ঢাকা। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও জানায়। ঢাকার অভিযোগ, শেখ হাসিনাকে ভারতে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন: তীব্র গ্যাস সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির চাকা

গত ১৭ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনের কারণে সফরের প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতকে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিকে দ্রুত প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদেরও চুক্তি অনুযায়ী হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এজেন্ডায় প্রত্যর্পণ, পানি ও সীমান্ত

সম্ভাব্য সফরের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর, আন্তসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও ট্রানজিট। পাশাপাশি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ভারতের সহযোগিতা, জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: ১২ ঘণ্টার প্যারোলে কারামুক্ত দীপু মনি

পানিবণ্টনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে একটি পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। নতুন চুক্তি নিয়ে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তারেক রহমানের সফর হলে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ততটা উষ্ণ ছিল না। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এই বাস্তবতায় নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত শুরু থেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: নবম পে স্কেলের গেজেট কবে, যা জানা গেল

ভারতের জন্যও বাংলাদেশের গুরুত্ব কৌশলগত। সীমান্ত নিরাপত্তা, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ, ট্রানজিট, বাণিজ্য এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব- সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গত এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দিল্লি সফর এবং ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।

মোদির বার্তা, ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর দেখা হওয়া দরকার’

১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি যান। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাক্ষাতের বিষয়টি অবহিত করেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ত্রিবেদী বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সরাসরি দিল্লি গিয়ে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

ভারতের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সফরকে মর্যাদাপূর্ণ ও স্মরণীয় করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব মুখোমুখি বসলে অনেক জটিল বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সহজে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন: মাদক সেবন করিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ

ভারতের সাবেক কূটনীতিকদের মধ্যেও তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি মনে করেন, সফরটি হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রির মত, সফরের সময়সীমা সীমিত হওয়ায় এটিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা কূটনৈতিকভাবে সমীচীন হবে না।

সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রায় নিশ্চিত হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকার উদ্বেগ, প্রত্যর্পণের দাবি এবং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সমীকরণের মধ্যেই আটকে আছে সফরের ভবিষ্যৎ। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

পে-স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা কবে, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

পে-স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা কবে, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

রাষ্ট্রপতির শপথ ঘিরে কাল বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক

রাষ্ট্রপতির শপথ ঘিরে কাল বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App