প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরে যা যা হলো
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সরকার গঠনের পর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে এটি ছিল তার প্রথম বড় কূটনৈতিক উপস্থিতি, যার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও দেশের মানুষের বিশেষ নজর ছিল এই সফরের দিকে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশ্বিক সংকটগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
সফরের মূল কার্যক্রম
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ভাষণ এবং ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যসহ মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুন: হরমুজকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ দেখিয়ে পোস্ট, বিতর্ক
সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রভৃতি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ‘রোহিঙ্গা সংকট: দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির অবসানে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিসহ টেকসই সমাধানের আহ্বান’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই সংকট সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এছাড়া কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি ও খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বোয়িং চুক্তি ও পারমাণবিক সমঝোতা
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও তার যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বেশ কিছু বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালেই বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক চাপের মুখে বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই চুক্তি করা নিয়ে কিছু সমালোচনা থাকলেও, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি-পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা
অন্যদিকে, সফরের শেষ পর্যায়ে এসে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য, রূপপুরে রাশিয়ার সহায়তায় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলমান রয়েছে।
শেখ হাসিনা ও ভারত প্রসঙ্গ
সফর চলাকালে নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অফিশিয়াল ব্রিফিংয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গও উঠে আসে। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ওই ব্রিফিংয়ে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তবে ওয়াশিংটন আশা করে, এই বিষয়টি যেহেতু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের একটি টানাপোড়েনের কারণ, তাই দুই দেশ আলোচনা করেই এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাবে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবগঠিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম বৈদেশিক সফর অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, “সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও সাইডলাইন বৈঠকগুলোতে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও ক্লাইমেট জাস্টিসসহ বাংলাদেশের দরকারি বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করার এই চেষ্টা বেশ ইতিবাচক।”
আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, সদ্য ক্ষমতা নেওয়া সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই আত্মপ্রকাশ বা 'এক্সপোজার' খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।
