প্রতিবেদন
কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকে ৩০৩ শিশু, সবচেয়ে বেশি কাশিমপুরে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে রয়েছে ২৯৮ থেকে ৩০৩টি শিশু। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫১ শিশু রয়েছে কাশিমপুর কারাগারে। এসব শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য কারাগারের বাইরে পুনর্বাসনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ করে কারাগারে বেড়ে ওঠা শিশুগুলোর স্বাভাবিক বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় নির্দিষ্ট বয়স শেষে তাদের নিকটাত্মীয়ের কাছে বিকল্প পারিবারিক যত্নের (ফস্টার কেয়ার) অথবা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি শিশু পরিবারে পুনর্বাসনের জন্য বলা হয়েছে।
এসব শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে নিয়মিত খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়। তবে কারাগারের পরিবেশ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে অনুকূল নয় বলে মনে করছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ কারণে শিশুদের বিকল্প পারিবারিক যত্ন কিংবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও প্রতিবেদনে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে।
‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে গত ৮ মে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদনসহ এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিমত যুক্ত করে গত জুন মাসে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদেশে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে কত শিশু রয়েছে, তাদের সংখ্যা, বয়স ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেন আদালত।
এর ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর রিট আবেদনকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদের কাছে প্রতিবেদনটি পাঠায়। তিনি সোমবার বলেন, চলতি সপ্তাহে সমন্বিত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছেন। কারাগারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন শাখার মাধ্যমে শিশুদের তত্ত্বাবধান করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসবে। তখন প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
আরও পড়ুন: রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত
সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘শিশু সুরক্ষা ইউনিট’ ও ‘প্রবেশন শাখার’ সমন্বিত মতামতসংবলিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসেস’ বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলা এবং আটটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতসহ মোট ৭২টি ইউনিটে পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’ কাজ করে থাকে।
বিকল্প পারিবারিক যত্নের সুপারিশ
প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, কারাগারের পরিবেশ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে অনুকূল নয়। তাই কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করতে ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পারিবারিক যত্নের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে কারাবন্দি মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুকে তার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় সমাজের নিকটাত্মীয়দের কাছে পুনর্বাসন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পারিবারিক যত্নের আওতায় শিশুর লালন-পালনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
নিকটাত্মীয়ের কাছে রাখা সম্ভব না হলে সরকারি শিশু পরিবার
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিশুকে নিকটাত্মীয়দের কাছে পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে কিংবা সেখানে রাখা শিশুটির জন্য নিরাপদ না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘সরকারি শিশু পরিবার’ অথবা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসনকেন্দ্রে শিশুটিকে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। সেখানে শিশুর সার্বিক লালন-পালন, সুরক্ষা ও শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ কিংবা উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
