×

খবর

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির তথ্য : কন্টেইনার ডিপোর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি এক হাজার কোটি টাকা

Icon

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে ১১ কোটি মার্কিন ডলার বা ১ হাজার ৩৪ কোটি (প্রতি ডলার ৯৪ টাকা হিসাবে) টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের মিস-হ্যান্ডেলিং থেকে এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘রাসায়নিক ও বিপজ্জনক পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শিল্প নিরাপত্তা : চট্টগ্রামের ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। শুরুতে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে শিল্পায়নের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়াবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ের চাহিদার কারণে বাংলাদেশও ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের অঞ্চল গড়ে তুলেছে। এগুলো শিল্পায়নের বড় ভূমিকা রাখবে। সে জন্য ক্রমান্বয়ে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাচ্ছি। তাই দাহ্য পদার্থের ক্ষেত্রে শক্তিশালী পলিসি হওয়া দরকার। দূষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের ক্ষেত্রে তৎপর হওয়া দরকার। নিজেদের অর্থনীতির শক্তিশালী দক্ষতা অর্জনের জন্য গেøাবালি ভয়েস রেইস করা দরকার। কারণ বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় চলছে। তাই কর্মীদের জীবন মান ও জীবনের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। শিল্প খাতে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো দুর্বলতা থাকলে তা অবশ্যই ভালো করে দেখতে হবে। মূল প্রবন্ধে ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও নারায়ণগঞ্জে দুর্ঘটনা ঘটেছে। পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। এসব দুর্ঘটনা শিল্প খাতের উন্নয়নের দুর্বলতা। এসব প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। শিল্পের নিরাপত্তায় এদের নজর দেয়া দরকার। ৪ জুন চট্টগ্রামের কন্টেইনার ডিপোতে যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে সেটা শুধু অগ্নিকাণ্ড না। এতে ৫১ জন মারা গেছে। এর মধ্যে ১২ জনই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী। ৬ হাজার ৩০০ ধারণ ক্ষমতার কন্টেইনার ডিপোতে ছিল ৪ হাজার ১৩৩টি কন্টেইনার। সেখানে ৬০০ কর্মী কাজ করত। এছাড়া প্রায় দেড় হাজার লোকের আনাগোনা ছিল নিয়মিত। কারো কাছে কোনো সঠিক তথ্য না থাকায় দুর্ঘটনার মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অথচ এসব দাহ্য পদার্থের ব্যবসায় বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস- সবার অনুমোদন ছিল। নিয়ম আছে ২০ কিলোমিটারের বাইরে এই ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) করার। কিন্তু এখানে কন্টেইনার ডিপো করার ক্ষেত্রে সেটি মানা হয়নি। সিপিডি গবেষণা পরিচালক আরো বলেন, দেশে অনেক দাহ্য পদার্থ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে ২৫১টি প্রতিষ্ঠান এই উৎপাদন কাজের সঙ্গে জড়িত। তারপরও ২০২১ সালে ৩০২ মিলিয়ন ইউরিয়া আমদানি করা হয়েছে। অন্যান্য দাহ্য পদার্থ আমদানি করা হচ্ছে। এসব পদার্থের উৎপাদন থেকে শুরু করে শিপমেন্ট, রপ্তানি, বাজারজাতকরণ সব ক্ষেত্রে এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বিডা, ডিসি অফিসের অনুমোদন লাগে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর কেউ একেকভাবে দায়িত্ব নিতে চায় না। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপত্তা কাঠামো অত্যন্ত জরুরি। দাহ্য পদার্থকে রেড ক্যাটাগরি শিল্প গণ্য করে রুলস ও রেগুলেশন করা দরকার। সেগুলো কার্যকর করাও দরকার। যাতে কোনো অগ্নিদুর্ঘটনা আর না ঘটে। এসব নিয়মকানুনকে একত্রিত করে অর্থাৎ সমন্বয়ের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যেন নিজে দায় এড়াতে না পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে এবার অভিযান

সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে এবার অভিযান

যাদুকাটায় ২৩ কোটি টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ, বিশেষ অনুমতিতে একক নিয়ন্ত্রণ

যাদুকাটায় ২৩ কোটি টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ, বিশেষ অনুমতিতে একক নিয়ন্ত্রণ

গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল ‌মোটরসাইকেল চালকের

গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল ‌মোটরসাইকেল চালকের

দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৮৮

দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৮৮

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App