ভুক্তভোগীর অভিযোগ
৬ বছর ধরে বিধবার ভাতা তুলছেন বিএনপি নেতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক অসহায় বিধবা নারীর ভাতার টাকা প্রায় ছয় বছর ধরে নিজের নগদ অ্যাকাউন্টে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার নিজস্ব মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেকের ব্যবহৃত নম্বরে বিধবা ভাতার টাকা পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুল খালেক দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সর্বশেষ কমিটির সহসভাপতি এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়া এলাকার মোছা. রহিমা বেগম সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিধবা ভাতা কর্মসূচির নিয়মিত সুবিধাভোগী। সর্বশেষ ২০২০ সালের জুলাই মাসে তিনি হাতে ভাতার টাকা পেয়েছিলেন। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে সরকার জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে ভাতা পাঠানো শুরু করে।
আরও পড়ুন: ৪ পুলিশ সুপারকে বদলি
রহিমা বেগমের দাবি, ভাতার টাকা পাওয়ার জন্য তিনি তখন একটি মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে তিনি আর কোনো ভাতার টাকা পাননি। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তার নামে বরাদ্দ হওয়া টাকা নিয়মিত একটি অপরিচিত নগদ নম্বরে পাঠানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নম্বরে টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত প্রায় ছয় বছর ধরে রহিমা বেগমের ভাতার টাকা ওই নম্বরে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবারই তা উত্তোলন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের ভাই তার ছেলের হাতে ৭ হাজার টাকা দিয়ে যান। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ডে বড় শর্ত, বাদ পড়বেন কারা?
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রহিমা বেগমের বিধবা ভাতার টাকা এমআইএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ০১৯১৭-৩৬৭৪৯২ নম্বরে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসে ওই নম্বরে ১ হাজার ৯৬১ টাকা পাঠানো হয়। অফিস সূত্র বলছে, গত ছয় বছরে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
রহিমা বেগম বলেন, ‘আমি বিধবা ভাতা পেতাম। ২০২০ সালের পর থেকে এক টাকাও পাইনি। অফিসে যোগাযোগ করলে তারা একটি নম্বর দিয়ে বলে, এই নম্বরে টাকা যায়। পরে গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, নম্বরটি খালেক মেম্বারের।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি মেম্বার-চেয়ারম্যান কারও কাছে যাইনি। তবে মেম্বারের ভাই আমার ছেলের কাছে নাকি ৭ হাজার টাকা দিয়ে গেছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘কীভাবে আমার নম্বর সেখানে গেছে, আমি জানি না। আমি তো ওই মহিলার কার্ড করে দিইনি। আর আমার ওই সিমটি চার বছর আগে হারিয়ে গেছে।’
সিম হারানোর বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, কোনো জিডি করিনি। তবে এ বিষয়ে আপস করা হয়েছে। এটা নিয়ে কেন এত কথা হচ্ছে? আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলব।’
সিম হারিয়ে গেলে এবং ভাতার টাকা নিজে উত্তোলন না করলে কীসের ভিত্তিতে আপস করেছেন- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
