আমার মানহানির জন্য দুদক কি দুঃখপ্রকাশ করবে: আসিফ মাহমুদ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও সরকারি কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অনুসন্ধান শুরুর আগেই ‘দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’- দুদকের এমন বক্তব্যে নিজের মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আসিফ মাহমুদ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম বুধবার সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে যে, অনুসন্ধান শুরু হওয়ার আগেই দুদক অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, যা জানাল দুদক
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, প্রমাণ ও সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ফলে তার মানহানি হয়েছে। পরে দুদকের মুখপাত্র সাংবাদিকদের একটি গ্রুপে বার্তা দিয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের পোস্টের শেষ দিকে আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, তার মানহানির জন্য দুদক কোনো ধরনের দুঃখপ্রকাশ বা অ্যাপোলজি করবে কি না।
যেসব অভিযোগে অনুসন্ধান
এর আগে বুধবার দুপুরে দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এসব বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতির পাশাপাশি পছন্দের ব্যক্তিদের পছন্দের স্থানে পদায়নের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।
চার সদস্যের তদন্ত দল
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন।
দুদক অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে। ওই অনুসন্ধান দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালাম।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বক্তব্য হলো, অনুসন্ধান শুরুর আগেই ‘দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা প্রকাশ করায় তার মানহানি হয়েছে। এ ঘটনায় দুদক দুঃখপ্রকাশ করবে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
