যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ৩০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের দাবি
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
বদরুল আলম। ছবি: ভোরের কাগজ
সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের গোরাগ্রাম মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর সঙ্গে থাকা সাদেক হোসেনও হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সাদেকের দাবি, তাঁদের কাছে থাকা ৩০ লাখ টাকা, মুঠোফোন ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
নিহত বদরুল আলম উপজেলার হাদারপার গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে। তিনি দুই ছেলের জনক। তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাদেক হোসেনের ভাষ্য, বদরুলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মনরতল বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। গোরাগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি সড়ক অবরোধ করে তাঁদের কাছে থাকা টাকা, মুঠোফোন ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বদরুল বাধা দিলে হামলাকারীরা দা, ছুরি, ছুলফিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের এলোপাতাড়ি আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই বদরুলের মৃত্যু হয়। সাদেক কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পান বলে জানান। তাঁর এসব বক্তব্যের বিষয়ে অন্য কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাধীন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে স্থানীয় লোকজন বদরুলের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদেহটি হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের মর্গে ছিল।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়লের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের এই বক্তব্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের অভিযোগের পাশাপাশি পূর্বশত্রুতার সম্ভাবনাও তদন্তে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টা: আয়াসসহ ৪ জন রিমান্ডে
পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলায় জড়িত কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় গোরাগ্রাম গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে শাহীনুর রহমান (২৯), মামুন আহমদ (৩৪), আমিনুর রশিদ (৩২), তুহিন আহমদ (২৫), সুহিন আহমদ (২৩) এবং উপরগ্রাম গ্রামের আব্দুস শহীদ ওরফে শহীদ দারের ছেলে নোমান আহমদের নাম রয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় ও তাঁদের দেওয়া তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁদের জড়িত থাকার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
বদরুল আলমের মৃত্যুতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন।
