তিন ডিটক্স পানীয়তে নিয়ন্ত্রণে রাখুন ফ্যাটি লিভার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও অলস জীবনযাপনের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকলে তা ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি করে সিরোসিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই সময়মতো খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, লিভার স্বাভাবিকভাবে অল্প পরিমাণ চর্বি ধারণ করতে পারে। তবে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি তৈরি হয়। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং কিছু প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ডিটক্স পানীয় লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
শসা, তরমুজ ও জিরার স্মুদি
শসা ও তরমুজ- দুই ফলেই প্রচুর পানি এবং খুব কম ক্যালোরি থাকে। শসায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে, আর তরমুজ শরীরকে আর্দ্র রাখে। অন্যদিকে জিরা হজমশক্তি উন্নত করতে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এই তিন উপাদান একসঙ্গে ব্লেন্ড করে তৈরি স্মুদি ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
আরো পড়ুন : মানসিক স্বাস্থ্যে খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব
কাঠবাদাম ও ডুমুরের স্মুদি
৫–৬টি ভেজানো কাঠবাদাম, একটি শুকনো ডুমুর, এক কাপ দুধ বা কাঠবাদামের দুধ, এক চামচ চিয়া বীজ, আধা চামচ দারুচিনি গুঁড়া এবং এক চামচ মধু একসঙ্গে ব্লেন্ড করে স্মুদি তৈরি করা যায়। কিছু সময় ফ্রিজে রেখে পান করলে এটি শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ, পেশি শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে সহায়তা করতে পারে।
হলুদ ও আনারসের স্মুদি
হলুদের কারকিউমিন এবং আনারসে থাকা ব্রোমেলিন প্রদাহ কমাতে কার্যকর বলে পরিচিত। এই স্মুদি তৈরিতে প্রয়োজন এক কাপ আনারসের টুকরা, আধা চামচ হলুদ গুঁড়া, এক ইঞ্চি কাঁচা হলুদ, সামান্য আদা, আধা কাপ নারকেলের পানি, এক চামচ লেবুর রস এবং এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়া। সব উপকরণ ব্লেন্ড করে সকালে বা বিকেলে পান করলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডিটক্স পানীয়ের ওপর নির্ভর করলেই ফ্যাটি লিভার সেরে যায় না। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপনই ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
