×

প্রথম পাতা

রাজধানীতে বেড়েছে যানজট

Icon

দেব দুলাল মিত্র

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীতে বেড়েছে যানজট

ফাইল ছবি

দিন যত যাচ্ছে ঢাকায় যানজট ততই বাড়ছে। তীব্র যানজটে সময়ের সঙ্গে দৌড়ে কুলিয়ে উঠতে পারছে না নগরবাসী। যানজট ব্যস্ত নগরজীবনের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আগের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে রাস্তায় নেমেও সময়মতো অফিসে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছতে পারছেন না পেশাজীবী মানুষ। সময়মতো ক্লাসে পৌঁছতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ডাক্তারের কাছে সিরিয়াল দিয়েও সময়মতো উপস্থিত হতে পারছেন না রোগীরা। সব মিলিয়ে যানজট পরিস্থিতি আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে সকালে অফিস শুরু ও বিকালে অফিস শেষের সময় যানজটে নাকাল হচ্ছে নগরবাসী।

লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল, সড়ক দখল করে দোকানপাট বসানো, যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট আগের চেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করছেন নগরীর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নাগরিক।

গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র যানজটে নাকাল নগরবাসী। নগরীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম সব দিকের রাস্তার একই অবস্থা। গুলিস্তান থেকে মালিবাগ ও সদরঘাট, মালিবাগ থেকে রামপুরা-বাড্ডা, দৈনিক বাংলা থেকে শাহজাহানরপুর-খিলগাঁও, ধানমন্ডি থেকে মোহাম্মদপুর, ঝিগাতলা থেকে প্রেস ক্লাব, বিজয় সরণি, মগবাজার থেকে মহাখালী, মহাখালী থেকে ফার্মগেট, কলেজগেট থেকে গাবতলী- এমন প্রতিটি সড়কেই তীব্র যানজটের ভোগান্তি নিয়েই নগরবাসীকে চলাচল করতে হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তীব্র যানজটে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন নগরবাসীকে এই একই চিত্রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পরিদর্শন কক্ষের নামফলক নিয়ে দুই এমপির বাগ্‌বিতণ্ডা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, নগরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে যানজটের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসন করা হবে। কারণ একটি সচল ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু নাগরিকদের স্বস্তিই নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুতই নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার।

তিনি বলেন, ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নীতিমালায় এসব রিকশা কোথায় ও কতটুকু চলতে পারবে, যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হবে।

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে দৈনিক বাংলায় অফিসে যেতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বসিলা রোড থেকে যানজট শুরু হয়ে অফিস পর্যন্ত একই অবস্থার মুখোমুখি পড়তে হচ্ছে। একদিনও সময়মতো অফিসে পৌঁছতে পারি না। রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বলতে কিছু আছে বলে মনে হয় না। যানজট কমাতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর নানান উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন সড়কে দেখা যাচ্ছে না।

সরকারি কর্মকর্তা জোহরা খাতুন বলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে সচিবালয়ের অফিসে পৌঁছতে প্রতিদিনই দেরি হয়। এই দীর্ঘ পথে সিগন্যালগুলোতে ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। দুই ঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হয়েও অফিসে উপস্থিতির নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের শিক্ষক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, এমনিতেই অপরিকল্পিত নগরায়ণের মধ্য দিয়ে ঢাকা শহর গড়ে উঠেছে। সড়ক আগের চেয়ে বাড়েনি, বরং আগে যে পরিমাণ সড়কে যানবাহন চলাচল করত- তা এখন কমে গেছে। ফুটপাত ও সড়কের ওপর দোকানপাট বসে পড়ায় গাড়ি চলাচলের জায়গা কমেছে। এছাড়া রাস্তার ওপর গাড়ি পার্কিংয়ের কারণেও রাস্তার বড় অংশ স্বাভাবিক চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত কয়েক বছরে লাখ লাখ অবৈধ অটোরিকশা এখন ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ। অপরদিকে রাস্তার পরিমাণের তুলনায় যানবাহনের পরিমাণ প্রায় ২৫ গুণ বেড়েছে। এই অবস্থায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন অবস্থায় পৌঁছেছে। কঠোর পদক্ষেপ না নেয়া হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন: রংপুর পুলিশ কমিশনারের বদলি, যা বললো সদরদপ্তর

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং, সড়কে দখল বাণিজ্য, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, গণপরিবহনের যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো- যানজটের প্রধান সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় কোথাও অবহেলা, আবার কোথাও দুর্বলতার কারণে যানজট দিনদিন প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সড়ক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যানজট সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না। ট্রাফিক পুলিশকে কঠোর অবস্থান থেকে আইন মানতে হবে। মূল সড়কগুলোতে কম গতিসম্পন্ন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। অটোরিকশা সব সড়কে চলতে দেয়া যাবে না। সড়ক দখলমুক্ত করে যানবাহনের গতি সচল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বিএনপির পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বিএনপির পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

শরিফুলের রেকর্ডে বড় লাফ, এগোলেন মুশফিক-মিরাজও

ক্রিকেট র‍্যাঙ্কিং শরিফুলের রেকর্ডে বড় লাফ, এগোলেন মুশফিক-মিরাজও

এক ডাক্তারের কাঁধে ৪১ হাজার রোগী!

এক ডাক্তারের কাঁধে ৪১ হাজার রোগী!

এই সরকারও যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে, প্রয়োজন সঠিক রোডম্যাপ

আইনমন্ত্রী এই সরকারও যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে, প্রয়োজন সঠিক রোডম্যাপ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App