রাজধানীতে চীনা অনলাইন প্রতারণা, জুয়ার নেটওয়ার্ক
মাসে পাচার হতো ২৫০ কোটি টাকা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বিদেশি নাগরিকদের একটি কথিত অনলাইন প্রতারণা ও জুয়ার নেটওয়ার্ক। পুলিশের দাবি, ভবনটির পাঁচটি তলায় চীনা নাগরিকরা অবস্থান করে অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। এই চক্রের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হতো বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় বাংলাদেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭) ছাড়াও ৩ চীনা নাগরিক-লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রানকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গতকাল রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ৩ চীনা নাগরিকসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
ডিবির মুখ্য এ কর্মকর্তা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে ডিবি সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। ভবনটি ঝর্না চাকমা নামে এক নারী ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি নিজে নিচতলায় থাকলেও ভবনের বাকি পাঁচটি তলা চীনা নাগরিকদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। এসব তলায় বিভিন্ন সময় চীনা নাগরিকরা এসে অবস্থান করতেন ও সেখান থেকেই অনলাইন জুয়া এবং বিভিন্ন প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগ পুলিশের। অভিযানে ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা থেকে অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি মোবাইল ফোন, প্রায় ৬ হাজার সিম, বিভিন্ন অপারেটরের বিপুলসংখ্যক সিম স্লট, ২০টি গেটওয়ে মেশিন, বিদেশি মদ ও নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারণার জন্য বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে চাকরি, অতিরিক্ত আয় কিংবা বিভিন্ন অফারের নামে বার্তা পাঠানো হতো। কেউ সেই লিংকে প্রবেশ করলে তাকে অর্থ পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করা হতো। এ কাজে গেটওয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার সিম ব্যবহার করা হতো। একটি মোবাইল ডিভাইস দিয়েই ১২টি পর্যন্ত সিম পরিচালনা করে প্রতারণা চালানো হতো বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করায় চক্রটিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। মো. শফিকুল ইসলামের দাবি, এই একটি গেটওয়ের মাধ্যমেই প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হতো। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
