দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে টানা এক বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা শেষে অবশেষে দেশে ফিরছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকর্মী ইলিয়াস কাঞ্চন।
কাঞ্চনের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন 'নিরাপদ নিউজ'-এর সংবাদকর্মী সোহাগ জানান, বাংলাদেশ সময় আজ সকালে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এই গুণী অভিনেতা। যাত্রা পথে তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স।
এছাড়া 'নিরাপদ সড়ক চাই'-এর সহ-সভাপতি লিটন এরশাদও ইলিয়াস কাঞ্চনের দেশে ফেরার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই আগমন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী ১৪ আগস্টের আগেই তাকে পুনরায় যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে হবে। মূলত ১৫ আগস্ট সেখানকার চিকিৎসকেরা তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দিন ধার্য করেছেন।
আরো পড়ুন: অবশেষে জনসম্মুখে আসছেন শেখ হাসিনা
মরণব্যাধি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত গুণী এই অভিনেতা চিকিৎসাকালীন ইতোমধ্যেই অন্তত ৬০টি কেমোথেরাপি গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার প্রভাবে তার দৈহিক চেহারায় এসেছে স্পষ্ট পরিবর্তন। সম্প্রতি বিমানবন্দর থেকে ধারণকৃত একটি স্থিরচিত্রে তাকে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখা যায়—যার পুরো চুল ও দাড়ি শুভ্র হয়ে গেছে এবং তাঁর সফরসঙ্গীরা পেছনের সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন।
লিটন এরশাদ জানান, ‘এতদিনের চিকিৎসায় আশানুরূপ উন্নতি হয়নি অভিনেতার। তিনি বলেন, ‘আমাদের কনফিডেন্স লেভেলটা কমে এসেছে। তার পরিবার লন্ডনের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। অথচ আশানুরূপ কিছু হয়নি। কাঞ্চন ভাইও দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে গেছেন। তাই পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কয়েক দিনের জন্য তাকে দেশে আনবে।’
প্রসঙ্গত, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। পরবর্তীতে আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হলেও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে টিউমারের প্রধান একটি অংশ সম্পূর্ণ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর নিয়মিত কেমোথেরাপি পর্ব চলছিল।
উল্লেখ্য, ইলিয়াস কাঞ্চন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও কালজয়ী এক ব্যক্তিত্ব। ইতিহাস সৃষ্টিকারী চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোছনা’সহ অসংখ্য ব্যবসা সফল ও দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি যেমন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তেমনি সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে লাভ করেছেন রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা 'একুশে পদক'।
