রেমিট্যান্সে ১৫% প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছর শুরু
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের প্রথম মাসের চেয়ে ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রবাহের মাসিক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি (৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা; বছরজুড়েই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন ছিল। ১২ মাসে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।
প্রতি মাসে গড়ে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৫০ লাখ (২ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন) ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল গত মার্চ মাসে, ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে মে মাসে; ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ডলারের দাম বাড়ায় চলতি জুলাই মাসে রেমিট্যান্স বাড়ার একটি কারণ বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমে গেছে। সবাই এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাচ্ছেন। মূলত এ কারণেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
এদিকে অর্থনীতির গবেষক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। ইরান যুদ্ধের কারণে এসব দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। থামবে থামবে বলেও থামছে না এই যুদ্ধ; নতুন নতুন মোড় নিচ্ছে। সে কারণে প্রবাসীরা তাদের জমানো সব টাকা দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এটাও রেমিট্যান্স বাড়ার একটি কারণ হতে পারে। রেমিট্যান্স বাড়লে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।
সবশেষ গত মে মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসাবে বর্তমানের ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।
