ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা
প্রক্টর কার্যালয়ের পর জাবির প্রশাসনিক ভবনেও তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্থা ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে প্রথমে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলানোর পর, এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক ভবনেও তালা লাগিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। তবে জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের এই ভবনে যাতায়াতের সুযোগ রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। এই ক্ষোভ থেকে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ঘটনার পর ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও আসামির কোনো খোঁজ মেলেনি। তাদের ৬ দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবিই হলো অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা, আর এই দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতেই তারা প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করেছেন।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার রাতে জনসংযোগ কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল রানাকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে বিভিন্ন বিভাগের আরও পাঁচজন অধ্যাপক এবং সদস্যসচিব হিসেবে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থী হেনস্থার শিকার হন। এ ঘটনায় পরদিন আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।
