বিআরটিসির বাসে নানা সমস্যা, ৯ দফা দাবি বেরোবি প্রশাসনের
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের পরিবহনসেবায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসের চুক্তি নবায়নের আগে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অন্যথায় বিকল্প হিসেবে বেসরকারি পরিবহনসেবা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিআরটিসির রংপুর ডিপোর ম্যানেজারের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির দুটি দ্বিতল ও চারটি একতলাসহ মোট ছয়টি বাস ভাড়াভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে পরিচালিত হচ্ছে। এসব বাসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। চুক্তি নবায়নের আগে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান চায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: স্থানীয় নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতির আসনে ভোট কবে? জেনে নিন
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে চিঠিতে সাতটি প্রধান সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাসে হেলপার বা সহকারী না থাকা, নির্ধারিত বাসের পরিবর্তে অন্য বাস সরবরাহ, ঘন ঘন চালক পরিবর্তন, নির্ধারিত স্টপেজে বাস না থামানো, চালকদের মোবাইল নম্বর পরিবহন পুলে না থাকা, নিম্নমানের বা পুরোনো বাস সরবরাহ এবং বাসে জিপিএস/ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম না থাকা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, একই বাস ও চালক নিয়মিত নির্ধারিত রুটে দায়িত্ব পালন না করায় কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা বাস শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সময়ানুবর্তী যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
সমস্যাগুলোর সমাধানে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি বাসে সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষিত হেলপার বা সহকারী নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ছয়টি বাস অপরিবর্তিত রাখা এবং বাস পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলকে অবহিত করা।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট চালক নিয়োগ, চালকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সব স্টপেজ ও রুট সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত ও প্রশিক্ষিত করা, কোনো স্টপেজ বাদ না দেওয়া এবং চালক ও হেলপারের নাম ও মোবাইল নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিটি বাসে কার্যকর জিপিএস/ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ১৮৪ জনের নিয়োগ
কোনো বাস নষ্ট বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সমমানের বা উন্নতমানের বাস সরবরাহ, প্রতিটি বাসের ফিটনেস, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়মিত নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস পরিচালনার সমস্যা দ্রুত সমাধানের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিআরটিসি সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে লিখিত আশ্বাস ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সমস্যাগুলোর সন্তোষজনক ও স্থায়ী সমাধান হলে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি পরিবহনসেবা গ্রহণের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করতে বাধ্য হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছি। ওই তারিখের মধ্যে তাদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানাতেও বলেছি। এখন সেই তারিখ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। এর মধ্যে তারা যদি সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে, তাহলে আমরা চুক্তি নবায়ন করব।’
