বাড়ছে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা
জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি
এক থেকে দুই দিন জ্বর থাকলেই নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু। বিশেষ করে চলতি বছর স্কুলগামী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: এবার ধূমপায়ীদের রক্তে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সিএম পরীক্ষা ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে।
৮ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্ত ১৮ হাজার ৬৭৩, মৃত্যু ৫৯
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
আক্রান্তদের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮২৭ জন। এ বয়সী রোগীদের মধ্যে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গুতে ২৬ জন মারা গেছেন।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডেঙ্গু পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। গত বছরের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৪১০ জন। এ বছর একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের, যেখানে ২০২৫ সালে মৃত্যু হয়েছিল ৯৫ জনের। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উভয়ই কম।
এডিস মশা ধ্বংসে জনসচেতনতা জরুরি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশা ধ্বংস করা। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার ও ফ্রিজের নিচে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: সিলেটে হামে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরো ১৮
ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে জ্বর কমানোর চেষ্টা করতে হবে। জ্বরের তীব্রতা বাড়লে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো জরুরি।
হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, এক-দুই দিনের জ্বর হলেও দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত।
তিনি জানান, ডেঙ্গু নিয়ে মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বাড়ার আশঙ্কায় দেশের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের পাশাপাশি পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: বাসস।
