প্রধানমন্ত্রী
দ্বিমত হতে পারে, তবে আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
জনগণের প্রত্যাশার জায়গা খুজে বের করতে জোট নেতাদের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছোট ভাই হিসেবে আপনাদের বলবো আমাদের সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে। আমাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন আমরা সকলে মিলে জনগণের প্রত্যাশার জায়গাগুলো আগে খুঁজে বের করে তা পূরণ করার চেষ্টা করি। এটা করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো কোনো জায়গায় দ্বিমত হতে পারে, তবে আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। ভুল বুঝাবুঝির কোন অবকাশ নেই।’
আরো পড়ুন: তিস্তা-ধরলার পানি বৃদ্ধি, রংপুর অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে শরিক দলের নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশ ভোজের আগে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। তাই আসুন আগামীতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।’
তারেক রহমান বলেন, 'আমাদের বড় শক্তি হচ্ছে এই দেশের জনগণ। জনগণের সমর্থন বিএনপিসহ সকল যুগপথ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আছে। তাই আমাদের শক্তি, জোর ততক্ষণ থাকবে যতক্ষণ জনগণের সমর্থন আমাদের সাথে থাকবে। এবং সেটা আল্লাহর রহমতে আমাদের সাথে আছে। কাজেই আমাদের মধ্যে যদি কোনো বিভেদ না থাকে, আমরা নিশ্চয়ই আমাদের ৩১ দফার আলোকেই হোক কিংবা জুলাই সনদের আলোকে হোক ইনশাআল্লাহ সকলে মিলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।'
আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন জোনায়েদ সাকি
একটি বিশেষ দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। অথচ আজকে অনেকেই এই সংগ্রামের দাবিদার হতে চায়। আমি নাম উল্লেখ করতে চাই না। তবে যাদেরকে একটি শব্দ 'গুপ্ত' ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষ তাদেরকে চেনে।'
তিনি বলেন, 'ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তারা কোথায় ছিল, এদেরকে আমরা অনেক খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। তবে তাদের কিন্তু রাজপথে না পেলেও যারা এই দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের সাথে বিভিন্নভাবে আমরা দেখেছি। অথচ ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে এই গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। কাজেই আসুন এসব গুপ্তদের হাত থেকে এ দেশকে রক্ষা করতে, দেশের মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে তা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ হই।'
বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমরা এখানে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একসাথে বসে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ টি দফা উপস্থাপন করেছিলাম বাংলাদেশের মানুষের সামনে। আমরা যখন এটি উপস্থাপন করেছিলাম তখন বাংলাদেশের অন্য অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা তখন সংস্কারের বিষয়ে কিছু বলতে শুনিনি। কিন্তু আজকে আমরা এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি, একত্রে আমরা কিন্তু তখন স্বৈরাচারের চোখ রাঙানিকে অপেক্ষা করে রাষ্ট্রের সংস্কারের দফা গুলো আমরা দিয়েছিলাম।'
আরো পড়ুন: স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না
তিনি বলেন, কাজেই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, যে ৩১ দফা আমরা সকলে মিলে বসে রচনা করেছিলাম, সেই ৩১ দফার পক্ষে বাংলাদেশের জনগণ রায় দিয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা হয়ে গেছে। কাজেই এটি বাস্তবায়নে আমরা সমমনা যারা আছি, সকলে মিলে কাজ করতে হবে।
ক্ষমতা গ্রহণের পরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের কী ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া পুরো দেশ ছিলো বিধ্বস্ত। ইকোনমি, জ্বালানি, বিদুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রত্যেকটি ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। এই অবস্থায় আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। তারপরেও আমরা রাতদিন পরিশ্রম করার মাধ্যমে চেষ্টা করেছি কীভাবে দেশের মানুষকে একটু স্বস্তি দেওয়া যায়। শতভাগ পেরেছি কিনা জানি না, তবে আমরা চেষ্টা করেছি এবং করে যাচ্ছি। শতভাগ না হলেও নিশ্চয়ই কেউ অস্বীকার করবে না-একদম নতুন একটি সরকার হিসেবে যেভাবে কাজ করছি, তাতে মানুষজনকে কিছুটা হলেও আমরা কমফোর্ট দিতে সক্ষম হয়েছি। আগামীতে সরকার পরিচালনায় সকলকে আহ্বান জানাবো আমাদের পাশে থাকার।’
আরো পড়ুন: ‘সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়’
অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
