কে হচ্ছে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফলে তিনিই বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা জানিয়েছেন, বিএনপি এবার দলীয় একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিতে আগ্রহী।
সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি মনে করছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে মির্জা ফখরুল এই পদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হতে পারেন।
আরও পড়ুন : রাষ্ট্রপতি হতে লাগবে যেসব যোগ্যতা
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এ অবস্থায় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে দলের শীর্ষ দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে তিনি মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ কারণেও তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ
তবে বিএনপির ভেতরে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। একাংশের মতে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে এটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্বীকৃতি হবে। অন্যদিকে আরেকটি অংশ মনে করছে, সরকার ও দল পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় উপস্থিতি এখনও প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হতে পারে।
আরও পড়ুন : বিলুপ্ত হচ্ছে র্যাব, আসছে ‘এসআরবি’
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না বলে জানিয়েছে। দলটির ভাষ্য, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় প্রার্থী দিলেও নির্বাচিত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৩ আগস্ট, যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। বৈধ প্রার্থী একজন হলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
সুত্র: বিবিসি বাংলা
