জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে যান নুরুল হক। পরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এখন নির্বাচিত সরকারকে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলে জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্রবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে। একইভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও ধর্ষণের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ভূমিকারও বিচার ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
নুরুল হক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করা হলে দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও সংকটে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: সংশোধন হবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি আরও দাবি করেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আল-কায়েদার সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে এ ধরনের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি সংগঠনটির বিরুদ্ধে অস্ত্রধারী ক্যাডার তৈরিরও অভিযোগ করেন।
নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াত-শিবির নিজেদের মজলুম হিসেবে উপস্থাপন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগকে একই ধরনের ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার সুযোগ পেয়ে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছিল। আর জামায়াত-শিবির সুযোগ না পেলেও তাদের বিরুদ্ধে অতীতের সহিংসতা, দখল ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জামায়াত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন নুরুল হক। তাঁর দাবি, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে দলটি এবং এসব প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোকজনকে শেয়ার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, জামায়াত মূলত ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারা চায়।
ওয়াজ ও জুমার খুতবায় আমির হামজার বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন নুরুল হক। তিনি বলেন, কোনো বক্তব্যে বিদ্বেষ, বিভাজন বা কুরুচিপূর্ণ বিষয় থাকলে জনগণকে তা প্রতিহত করতে হবে।
আমির হামজার পক্ষে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। নুরুল হকের দাবি, এর মাধ্যমে দলটি আমির হামজার বক্তব্যকে সমর্থন করেছে। তিনি জামায়াতের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে দলটির নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দ বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
নুরুল হকের অভিযোগ, ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াত অল্প সময়ের মধ্যেই নানা ধরনের সমালোচনা শুরু করেছে।
