রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৪ সংসদ সদস্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ২টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। অধিকাংশ সংসদ সদস্য ভোট দিলেও চারজন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি।
এর মধ্যে তিনজন সংসদ সদস্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন না। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
নির্বাচন কমিশন গঠিত প্যানেলের অধীনে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অধিকাংশ সংসদ সদস্য ভোট দেন।
বিকেল ৫টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এখন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা ভোট গণনা করবেন। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ভোটগ্রহণ শেষে জানা যায়, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী
সংসদ সূত্র জানায়, মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতাজনিত কারণে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ কারণে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে তাঁর অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বিএনপি কিংবা ১১ দলীয় জোটের যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে ভোটকক্ষে দেখা যায়নি।
এদিকে, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেননি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন দলটি আগেই এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদে যে ঐকমত্য হয়েছিল, তা থেকে সরে আসার কারণে তারা নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভোটগ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে আসনভিত্তিক ব্যবস্থা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের জন্য তিনটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছিল। সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে গোপনীয়তার সঙ্গে ভোট দেন।
ভোট দেওয়ার পর বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং ফটোসেশনে অংশ নেন।
