×

জাতীয়

গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর

ছবি : সংগৃহীত

গত ১৭ বছরের শাসনামলে গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রস্তাবিত এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুচিকিৎসা, আইনি সহায়তা, সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যও দেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: ইলিয়াসকে মেঘনা আলমের চ্যালেঞ্জ

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যারা গুরুত্বপূর্ণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা গুম হয়েছেন, নির্মম হত্যাকাণ্ড বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়ে আর পরিবারের কাছে ফিরে আসেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় সর্বস্ব হারিয়ে বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন- রাষ্ট্র তাদের ত্যাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়।

আরও পড়ুন: ১০ বছরকে ২০ বছর হতে দেওয়া যাবে না: শামা ওবায়েদ

মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ না পায় এবং কোনো মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সে জন্য স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ তারই অংশ।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল চেতনা ছিল মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার, মানবাধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের অবসান এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ২০০৯ সালের পর ভোটাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠার পথে যারা জীবন দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্র কী করতে পারে, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন বার্তা জয়শঙ্করের

সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালী সংশোধন করে নতুন এই দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার নীতিগত বিষয়েও আলোচনা হয়।

আলোচনায় কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এগুলো হলো- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালী সংশোধন করে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত করা।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

২৫ এজেন্সির তালিকা নিয়ে উদ্বেগ বায়রার, চার দাবি

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার ২৫ এজেন্সির তালিকা নিয়ে উদ্বেগ বায়রার, চার দাবি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে: জামায়াত

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে: জামায়াত

দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগ, পরিপত্র জারি

দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগ, পরিপত্র জারি

শরণখোলায় শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

শরণখোলায় শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App