কুড়িগ্রামে পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ২০৪ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
অন্যদিকে, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দুধকুমার নদের তীব্র স্রোতে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।
আরো পড়ুন : কুড়িগ্রামে বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারো মানুষ
নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুরিয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা খলিল মিয়া বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীর পানি ঢুকেছে। পানি আরো বাড়লে বাড়িতেও পানি ঢুকে যাবে। তখন আমরা বড় বিপদে পড়ব। রাতে বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
একই এলাকার হোসেন আলী (৫০) বলেন, বাড়িতে পানি ওঠায় রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন কী হয়, সেই ভয় কাজ করে। রান্নাবান্নাও করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী নৌকা, শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ পরিস্থিতি আরো তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হতে পারে।
