রিজভীই হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় দলটির সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার শূন্য পদে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে মহাসচিব পদে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে রুহুল কবির রিজভীর নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিএনপির অতীত রীতিও রিজভীর পক্ষে যাচ্ছে। দলের প্রথম যুগ্ম মহাসচিবকে বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার পর জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার নজির রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রিজভীকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হতে পারে। পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।
মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং তার শূন্য পদে নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০-২১ আগস্টের মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাবে। দলের চেয়ারম্যানই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এখানে কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয় নেই।
রিজভীর এই বক্তব্যের পর বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগকে রুহুল কবির রিজভীর অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তার।
আরও পড়ুন: কাল পদত্যাগ করতে পারেন মির্জা ফখরুল
দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর পরিচালনা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নেও দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন রিজভী। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর তৃণমূল পর্যন্ত তাঁর বিস্তৃত যোগাযোগ তাঁকে অন্য অনেক নেতার তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।
দলের সংকটময় সময়েও সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও দলীয় অবস্থান গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে রিজভী ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান মুখ।
বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৬ সালে তিনি দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের বিভিন্ন সংকট ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা রয়েছে।
তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেই কাউন্সিলে তিনি মহাসচিব পদে থাকছেন না এমন ইঙ্গিত মির্জা ফখরুল আগেই দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুলকে দলীয় প্রার্থী করার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মহাসচিবের দায়িত্ব ছাড়তে হবে তাকে।
আরও পড়ুন: আমার সহধর্মিণী জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল
বিএনপির অতীত রাজনৈতিক রীতি অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়া নেতাকে পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার নজির রয়েছে। রিজভীর ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।
প্রথম ধাপে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এরপর জাতীয় কাউন্সিলে দলের নেতাকর্মীদের মতামত এবং দলীয় চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই নির্ভর করছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব দুই ক্ষেত্রেই আগামী কয়েক দিনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী।
