×

জাতীয়

সিডিআর থেকে এনআইডি, টাকায় মিলছে সবই

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

সিডিআর থেকে এনআইডি, টাকায় মিলছে সবই

ছবি : সংগৃহীত

মুঠোফোনের ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্যকে কেন্দ্র করে অনলাইনে গড়ে উঠেছে কেনাবেচার একটি বাজার। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসব তথ্য বিক্রির প্রচার চালানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), মুঠোফোনের অবস্থান, খুদে বার্তা বা এসএমএস, কর শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) সনদ, পাসপোর্টের তথ্য এবং মুঠোফোনে আর্থিক লেনদেনের বিবরণ। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে এমন ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকে ৬০০টির বেশি পোস্টের সন্ধান পেয়েছে তারা। এসব প্ল্যাটফর্মে মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্যও নিরাপদ নয়। এমনকি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গোপন তথ্যও ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

আরও পড়ুন: একনেক সভা কী, কীভাবে কাজ করে

ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত যোগাযোগ তার একান্ত গোপনীয় বিষয়। সেই তথ্য যদি সহজেই অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যায়, তাহলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। কোনো অপরাধী চক্র কাউকে ক্ষতি করতে চাইলে তার মুঠোফোনের সিডিআর সংগ্রহ করে ওই ব্যক্তি কোথায় কোথায় যাতায়াত করেন, সে সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে বলেও জানান তিনি।

সিডিআর বিক্রি করা একটি ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে হোমপেজে প্রবেশ করলে বিভিন্ন ধরনের সেবার বিজ্ঞাপন দেখা যায়। সেখানে এনআইডি ক্রিয়েট, স্মার্ট এনআইডি ক্রিয়েট, জন্মনিবন্ধন ক্রিয়েট, অটো সাইন কপি, বায়োমেট্রিক অর্ডার, লোকেশন অর্ডার, কললিস্ট অর্ডার, মুঠোফোনের আর্থিক সেবা অ্যাপের অর্ডার এবং পাসপোর্টের এসবি কপি বিক্রির মতো সেবার কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা ফি ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির তিন মাসের সিডিআর নিতে খরচ পড়ছে ১ হাজার ৫০ টাকা। ছয় মাসের সিডিআরের জন্য নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এসব ওয়েবসাইটের পরিচালকেরা ক্রেতাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ খুলে সেখানে বিভিন্ন তথ্য ও বার্তা আদান-প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: এসএমই ঋণ কী?

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে বিক্রি বা ফাঁস হতে দেওয়া যায় না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এই চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে বিক্রি হওয়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিটিআরসি কাজ করছে।

দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের মোট গ্রাহকসংখ্যা ১৯ কোটির কিছু বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ৫৬ শতাংশ মুঠোফোন ব্যবহার করেন।

একজন ব্যক্তি মুঠোফোনে কাকে কল করেন, কে তাকে ফোন করেন এবং কী কী খুদে বার্তা বিনিময় হয়- এসব তথ্য মোবাইল অপারেটরগুলো সংরক্ষণ করে। আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণেই তাদের এসব তথ্য রাখতে হয়। সিডিআরে এসব তথ্যের পাশাপাশি থাকে মুঠোফোনের আইএমইআই বা শনাক্তকরণ নম্বর এবং কল বা এসএমএসের সময় ব্যবহৃত মোবাইল টাওয়ারের তথ্য।

আরও পড়ুন: কোন প্রকল্প যাবে একনেকে, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

মোবাইল অপারেটরদের এই তথ্যভান্ডার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসহ ১২টি সংস্থার। তবে সিডিআরে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মুঠোফোন অ্যাপের তথ্য পাওয়া যায় না।

মোবাইল অপারেটর সূত্র জানিয়েছে, কারা এবং কীভাবে মানুষের তথ্য সংগ্রহ করছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব। তবে এ জন্য সরকারের জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: এসএমই ঋণ নিতে কী লাগবে?

তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের (টিজিআই) গত মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৬৮টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৬টি সরকারি এবং ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকারের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা। একই সঙ্গে তথ্য ফাঁসের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগতভাবে সেগুলোর সমাধান করতে হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পে স্কেলের গেজেট কবে, মিলল সর্বশেষ তথ্য

পে স্কেলের গেজেট কবে, মিলল সর্বশেষ তথ্য

মাদ্রাসা শিক্ষকের স্বীকারোক্তিতে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

শিশুকে যৌন নির্যাতন মাদ্রাসা শিক্ষকের স্বীকারোক্তিতে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

‘বৈধ হলে যেকোনো দলের প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন’

‘বৈধ হলে যেকোনো দলের প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন’

ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App